মহান আল্লাহর কাছে অতীব প্রিয় ৩টি ইবাদত
ইবাদত কি?
ইবাদত العبادة শব্দের অর্থ: গোলামী বা দাসত্ব করা, আনুগত্য করা, বিনয় প্রকাশ করা ইত্যাদি।আর পারিভাষিক ব্যাপক অর্থে ইবাদত হল, সকল প্রকার প্রকাশ্য- অপ্রকাশ্য ঐ সকল কথা ও কাজ যেগুলো মহান আল্লাহ ভালবাসেন করেন এবং সন্তুষ্ট হন। (শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.)(১)
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন যে প্রকার দাসত্ব তথা ইবাদতের আদেশ নাযিল করেছেন সেটা হলো- “এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের পছন্দনীয় সকল প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তার অপছন্দনীয় সবকিছুকে বের করে দেয়। ইবাদতের এ পরিচয়ের আওতায় শাহাদাতাইন (কালিমা ও রিসালাতের দুইটি সাক্ষ্যবাণী), সালাত, হজ্ব, সিয়াম, জিহাদ, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, আল্লাহ্র প্রতি ঈমান, ফেরেশতা-রাসূল-শেষ বিচারের দিনের প্রতি ঈমান...ইত্যাদি সবকিছু অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। (২)
সূত্রঃ
১।https://islamqabd.com/ইবাদত-শব্দের-অর্থ-ও-ব্যাখ/
২https://islamqa.info/bn/answers/6622/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%AE-%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%A4-%E0%A6%AC-%E0%A6%A6%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%AF
৩। https://www.hadithbd.com/quran/tafsir/?pageNum_tafsirquran=5&totalRows_tafsirquran=60&sura=51_
৪। ১ নং টিকা দেখুন
৫।https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=22&hadith=%E0%A7%A8%E0%A7%A8%E0%A7%A7%E0%A7%AF
৬।https://www.hadithbd.com/books/detail/?book=67&chapter=9173
৭।https://www.hadithbd.com/hadith/detail/?book=20§ion=484
৮।http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=38
৯।http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=45316
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন যে প্রকার দাসত্ব তথা ইবাদতের আদেশ নাযিল করেছেন সেটা হলো- “এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের পছন্দনীয় সকল প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তার অপছন্দনীয় সবকিছুকে বের করে দেয়। ইবাদতের এ পরিচয়ের আওতায় শাহাদাতাইন (কালিমা ও রিসালাতের দুইটি সাক্ষ্যবাণী), সালাত, হজ্ব, সিয়াম, জিহাদ, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, আল্লাহ্র প্রতি ঈমান, ফেরেশতা-রাসূল-শেষ বিচারের দিনের প্রতি ঈমান...ইত্যাদি সবকিছু অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। (২)
মহান আল্লাহ আমাদের ইবাদত করার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ বলেনঃ وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِي، مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِي، إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
অর্থঃ আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।আমি তাদের কাছে কোন রিয্ক চাই না; আর আমি চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিবে।নিশ্চয় আল্লাহই রিয্কদাতা, তিনি শক্তিধর, পরাক্রমশালী। (সুরাহ আয যারিয়াত; আয়াত ৫৬-৫৮) (৩)
যেমনঃ আল্লাহ বলেনঃ
وَّ جَعَلۡنَا نَوۡمَکُمۡ سُبَاتًا
অর্থঃআর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম। (৭৮ঃ ৯)
ইসলামে সন্ন্যাসবাদ নেই।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এই দুনিয়াতে জীবিকা অর্জনের আদেশ দিয়েছেন। আদেশ দিয়েছেন নিজ পরিবারের খোঁজ খবর রাখতে। তার জন্য প্রশান্তিদায়ক ঘুম সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন ক্ষুদা। এসব আল্লাহর দান ও এইসব প্রয়োজন মেটানো আল্লাহর আদেশ। মানুষ আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইবাদত-বন্দেগী করে যেমন সওয়াব অর্জন করে তেমনি দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন- ঘুমানো, পানাহার, বেচাকেনা, জীবিকার অনুসন্ধান, বিবাহ-শাদী ইত্যাদি- এগুলোর মাধ্যমেও সওয়াব অর্জন করবে যদি তার উদ্দেশ্য হয় যে, এ সকল বৈধ কাজকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের কাজে শক্তি অর্জন করবে অর্থাৎ এগুলোর মাধ্যমে সুস্থ ও ভালো থেকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করবে। (৪)যেমনঃ আল্লাহ বলেনঃ
وَّ جَعَلۡنَا نَوۡمَکُمۡ سُبَاتًا
অর্থঃআর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম। (৭৮ঃ ৯)
আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সংখ্যক সাহাবী তার কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ধন সম্পদের মালিকেরা তো সব সাওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করি তারাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করি তারাও সেভাবে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সাওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা কি তোমাদেরকে এমন অনেক কিছু দান করেননি যা সদাকাহ করে তোমরা সাওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ) একটি সদাকাহ, প্রত্যেক তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) একটি সদাকাহ, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলা একটি সদাকাহ, প্রত্যেক 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলা একটি সদাকাহ, প্রত্যেক ভাল কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ করতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেয়া একটি সদাকাহ্। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে সদাকাহ রয়েছে। অর্থাৎ আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সদাকাহ। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ তার কাম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে বৈধ পথে আর এতেও কি তার সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, তোমরা বল দেখি, যদি তোমাদের কেউ হারাম পথে নিজের চাহিদা মেটাত বা যিনা করত তাহলে কি তার গুনাহ হত না? অনুরূপভাবে যখন সে হালাল বা বৈধ পথে কামাচার করবে তাতে তার সাওয়াব হবে। (৫)
আল্লাহর প্ছন্দনীয় তিনটি সহজ ইবাদত
১. সালাত
আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, إِنَّ الصَّلاَةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ ‘নিশ্চয়ই সালাত মুমিনকে নির্লজ্জ ও অপসন্দনীয় কাজ সমূহ হতে বিরত রাখে’ (আনকাবূত ২৯/৪৫)। (৬)২. পিতামাতার যত্ন নেওয়া
ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, (কারো প্রতি তার) পিতা সন্তুষ্ট থাকলে প্রভুও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন এবং তার পিতা অসন্তুষ্ট থাকলে প্রভুও অসন্তুষ্ট থাকেন।(৭)
৩. জিহাদ
আবূ যুর’আ ইবনু ‘আমর ইবনু জারীর (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, যদি সে শুধু আল্লাহর উপর ঈমান এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের কারনে বের হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্ তা’আলা ঘোষণা দেন যে, আমি তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনব তার সওয়াব বা গনীমত (ও সওয়ার) সহ কিংবা তাকে জান্নাতে দাখিল করব। আর আমার উম্মতের উপর কষ্টদায়ক হবে বলে যদি মনে না করতাম তবে কোন সেনাদলের সাথে না গিয়ে বসে থাকতাম না। আমি অবশ্যই এটা পছন্দ করি যে, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই। (৮)উপরোক্ত আমলগুলোর দলীলঃ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল কি? তিনি বলেনঃ ওয়াক্তমত নামায পড়া। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ পিতা-মাতার সাথে সদাচার। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ।(৯)
সূত্রঃ
১।https://islamqabd.com/ইবাদত-শব্দের-অর্থ-ও-ব্যাখ/
২https://islamqa.info/bn/answers/6622/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%AE-%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%A4-%E0%A6%AC-%E0%A6%A6%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%AF
৩। https://www.hadithbd.com/quran/tafsir/?pageNum_tafsirquran=5&totalRows_tafsirquran=60&sura=51_
৪। ১ নং টিকা দেখুন
৫।https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=22&hadith=%E0%A7%A8%E0%A7%A8%E0%A7%A7%E0%A7%AF
৬।https://www.hadithbd.com/books/detail/?book=67&chapter=9173
৭।https://www.hadithbd.com/hadith/detail/?book=20§ion=484
৮।http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=38
৯।http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=45316
মন্তব্যসমূহ
সুন্দর ও তথ্যবহুল লেখনী!