কাশগড়-কতো না অশ্রুজল বই সম্পর্কে
কাশগড়-কতো না অশ্রুজল ও কিছু উপলব্ধিঃ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। কাফিরদের দেশে অত্যাচারিত বিভিন্ন অসহায় মুসলিম সম্প্রদায়ের কথা চিন্তা করলেই জ্বলজ্বলে অক্ষরে সবার পূর্বে মাথায় ভেসে ওঠে উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম, যারা দীর্ঘদিন ধরে যিন্দিক কমিউনিষ্ট রাষ্ট্র চীনাদের হাতে নির্যাতিত হয়ে আসছে। তাদের কথাই বলা হয়েছে এই বইয়ে। এই লেখায় আমি তুলে ধরতে চাই মুসলিমদের অলসতা ও তাদের ফাঁকিবাজী সম্পর্কে। মুসলিমদের অলস বলছি-কারণ অলসরাই মূলত কোনো কাজ করার গুরুত্ব উপলব্ধি করা সত্ত্বেও তা করে না বা কাজটি করার বিরোধীতা করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাদের সেই কাজের মাশুল দিতে হয়,-কথায় যেমন বলেঃ "সময়ের এক ফোঁড়,অসময়ের দশ ফোঁড়"। তেমনই যখন ইরাকে আমেরিকা গণহত্যা চলছিল, তখন সিরিয়ানরা ভাবছিল, "আমাদের কী, আমাদের উপর তো আর গণহত্যা চলছে না। কিন্তু পরে ঠিকই ভুল ভাঙ্গে বিভ্রান্ত সিরিয়ার বাসিন্দাদের। তাই আমাদের উচিত আগে থেকে সতর্ক হয়ে সাধারণ শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। আরাকানীদের উপর গণহত্যা চললে বাংলাদেশীরা, আমরা যেন না ভাবি, মায়ানমারের মুশরিক বৌদ্ধরা তো আমাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার করছে না, তাই তারা আমাদের শত্রু নয়। কিন্তু মুসলিম হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে, যারা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার করে, তাদের ভূমি কেড়ে নেয়, তাদের ইবাদতখানাগুলোকে মদের বার বানায়, তাদের বাড়িঘর উচ্ছেদ করে, তাদের মেয়েদের ধর্ষণ করে, তারা সকল মুসলিমের সাধারণ শত্রু। যেমনটা করছে হান চাইনীযরা। কিন্তু তারপরও আমরা হাতে চুড়ি পরে ঘরে বসে আছি, এসি রুমে বসে ফতোয়া দিচ্ছি আর আরামদায়ক বিছানায় রাত্রিযাপন করছি। এটা কী আমাদের ভাইদের ব্যাপারে আমাদের ফাঁকিবাজী না! আমাদের কী তখন ভুল ভাঙবে, যখন শত্রুদের মেশিনগানে ঝাঁঝরা হয়ে যাবে আমাদের বাবা-ভাই, আমাদের রক্তে আমাদেরই দেশের ভূমি, আমার সিজদার ভূমি লাল হয়ে যাবে? আমাদের বোনের আর্তচীৎকারে বাতাস ভারী হয়ে আসবে, আমাদের শিশুরা ভাঙ্গা বিল্ডিং-এর নিচে মানবেতরভাবে শৈশব কাটাবে? তবে সিরিয়ানদের মতো ভুল না করে, দেখুন হান চাইনীযরা কী করছে আমাদের উইঘুর ভাই-বোনদের। (১) আপনাদের সুবিধার্থে বইয়ের পেছনের লেখাটি তুলে দিচ্ছিঃ
ত্রিশ লক্ষ মানুষ বন্দী কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে। চলছে অমানুষিক নির্যাতন,গণধর্ষণ। শ্রমদাসত্ব, মেডিকেল এক্সপেরিমেন্ট। জোরপূর্বক গর্ভপাত। অর্গান হারভেস্টিং,মানুষের বিকিকিনি........
গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র পুলিশি রাষ্ট্র। সরকারী লাইসেন্স নিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে হান 'আত্মীয়'। গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে অগণিত মসজিদ আর কবরস্থান। নামায নিষিদ্ধ । রোজা নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ দাড়ি, হিজাব, আরবি বর্ণমালা। ঘোষণা দিয়ে বিকৃত করা হচ্ছে কুরআন।
...না। এটা অতীতের কোনো গল্প না। ভবিষ্যতের কোনো কল্পকাহিনী না। আমাদের বর্তমানের কথা। পূর্ব তুর্কিস্তানের আড়াই কোটি মুসলিমের জীবনের কথা। নীরবতার প্রাচীরের আড়ালে উইঘুর-কাজাখ মুসলিমদের ওপর চালানো চীনা জেনোসাইডের কথা
অকেজো বিশ্বব্যবস্থা আর জাতিরাষ্ট্রের সীমানায় আটকে ধুঁকেধুঁকে মরা উম্মাহর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পূর্ব তুর্কিস্তানে নির্বিঘ্নে গণহত্যা চালাছে চীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসিদের চাইতেও অনেক হিসেবী এই গণহত্যা। আরো অনেক পরিপাটি চীনের এই আগ্রাসন।
এই বই সেই আগ্রাসণের গল্প নিয়ে। একুশ শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ এবং উপেক্ষিত গণহত্যার শিকার মানুষদের অশ্রু,রক্ত,জীবন আর মৃত্যুর উপাখ্যান নিয়ে।
আজই তাই কিনুন এই বইটি যদি আপনার আরো জানার ইচ্ছে থাকে। বসে বসে টিভিতে মিথ্যে কাহিনীতে ভরপুর ও বেপর্দা গাইরে মাহরাম মেয়ে সংবলিত কুরুলুস উসমান, দিরিলিস আর্তুগ্রুল সহ যাবতীয় টিভি সিরিজ দেখা বাদ দিয়ে বইটি কিনে পড়ুন। একবার পড়লে রাতের ঘুম কিছুদিনের জন্য হারাম হয়ে যাবে। হার্টের রোগী হলে না পড়াই ভালো।
কিনতেঃhttps://www.wafilife.com/shop/books/kashgor-koto-na-ossrujol/
(১) একটু বড় ফন্টে লেখা কথাগুলো বইয়ের নানা পৃষ্ঠা থেকে ধার করে ঈষৎ পরিমার্জনা করে লেখা।
মন্তব্যসমূহ